img
Home / ফিচার / একজন মহানায়কের গল্প

একজন মহানায়কের গল্প

/
/

স্বাধীনতা পদক (২০১৫), পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা অভিনেতা), মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা ২০১৪ সহ শত শত পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত উজ্জল নক্ষত্র; যার মাত্র আট বছর বয়সে বাবা আকবর হোসেন ও মা নিসারুন্নেসা দুজনই মারা যান। বড় ভাই- বোনদের পরম মমতা -রাজ্জাককে বুঝতেই দেননি বাবা-মায়ের শূন্যতা। ফুটবলার হবার ইচ্ছা থাকলেও অভিনয়শিল্পীদের পাড়ায় থাকতে থাকতে একসময় নিজের প্রতিভার মোড় ঘুরাতে থাকেন। অবিভক্ত ভারতের কলকাতার কালীগঞ্জের নাকতলায় তিনি জন্মেছিলেন,যেখানে বাস ছিল অভিনয়শিল্পী ছবি বিশ্বাস এর। ছবি বিশ্বাস বিপুল উৎসাহ নিয়ে আবৃত্তি শেখাতেন পাড়ার শিশু-কিশোরদের। রাজ্জাকও তাঁর কাছে আবৃত্তি শিখেছেন। পাড়ার শক্তি সংঘ ক্লাবে অভিনয় করলেন ‘ইহুদি’ নাটকে। এরপর তরুণতীর্থ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীতে নিয়মিত অভিনয় করা শুরু করেন তিনি। এই ক্লাবের সভাপতি ছিলেন ছবি বিশ্বাস। নাট্য পরিচালক ছিলেন পীযূষ বোস। পীযূষ বোস এর পরামর্শে নিজের অভিনয় ক্যারিয়ার গড়তে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে মাইগ্রেশন করে খুলনা বর্ডার দিয়ে শিমুলিয়া হয়ে ঢাকায় চলে এলেন রাজ্জাক। তত দিনে তিনি বিয়ে করেছেন (১৯৬২), স্ত্রী রাজলক্ষ্মী ও আট মাসের সন্তান বাপ্পারাজকে সঙ্গে করে ঢাকায় এলেন। শুরু হলো সংগ্রামী জীবন। রাজ্জাকের আইডল ছিলেন উত্তমকুমার।কিন্তু বাস্তবতা তাকে হোঁচট দিতে থাকলেও চেষ্টা করে যান অভিনয় জগতে। অভিনয়ের সুযোগ সেভাবে হয়নি, পরিচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। কাগজের নৌকা, কাগজের বৌ, ১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন ছবিতে ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেন। ভালো বা বড় কোনো চরিত্রের জন্য কেউ তখনো তাঁকে ডাকেনি,জহির রায়হান ছাড়া। “বেহুলা” ছবির নায়কের চরিত্রে জহির রায়হান নিলেন রাজ্জাককে। রাজ্জাক পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছিলেন ছবিটি করে। এরপর জহির রায়হানের “আগুন নিয়ে খেলা” ছবিতে অভিনয় করে পেলেন সাত হাজার টাকা। পরিবর্তনের প্রত্যয়ে চলতে থাকেন রাজ্জাক, রাজ করা শুরু করলেন অভিনয়শিল্পে। ২০১৪ সালে “কার্তুজ” তাঁর শেষ ছবি হলেও দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি সুচন্দা, কবরী, শাবানা, ববিতা, রোজিনার সঙ্গে একের পর এক সফল জুটি উপহার দিয়েছেন। ওরা ১১ জন, অবুঝ মন,রংবাজ, অগ্নিশিখা, অশিক্ষিত ,ছুটির ঘণ্টা,আলোর মিছিল,অনন্ত প্রেমসহ বাংলা- উর্দু মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক।

রাজ্জাক
নায়করাজ রাজ্জাক

শুধুমাত্র অভিনেতা হিসেবেই সময় পার করেন নি নায়করাজ রাজ্জাক।সুযোগ এবং সময় পেলেই চেষ্টা করেছেন তাঁর সুনিপুণ হাতে গড়া চলচ্চিত্র মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে।শারীরিক অসুস্থতা তাঁর গতিকে শ্লথ করতে থাকলেও মানসিক দৃঢ়তা তাঁর অনেকগুলো কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো, গত ২১-০৮-২০১৭ তারিখ,রোজ সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান দেশের এই কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি অনেক দিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

 

Comments Below

comments

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Pinterest
  • stumbleupon