img
Home / আমিও লিখি / মধ্য রাতের কাব্য

মধ্য রাতের কাব্য

প্রতিটি রাতের ও কিছু ছন্দ থাকে, কিছু রঙ, কিছু গন্ধ থাকে। নাগরিক কোলাহল থেকে  জগৎ সংসার জলাঞ্জলি দিয়ে সেই ছন্দ, রঙ, গন্ধ রয়ে যায় নৈশব্দের কফিনে। কিছু কিছু রাতের অন্ধকার গুলো হয়, নিদারুণ মন মুষড়ে যাবার মতো অন্ধকার। ঠিক যেন হেমলকের চুমুকের মতো আগুন ধরিয়ে দেয় কণ্ঠনালীতে, সেগুলো হয়ে ওঠে এক একটি তেতো শব্দ।

জোয়ার ভাটার দোলাচলে, আহ্নিক ও বার্ষিক গতির সাথে পাল্লা দিয়ে, কোন কোন রাত হয়ে যায় নীল জোনাকির রাত। নিজস্ব নরম বিছানায় খুঁজে পাই এক একটি আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন; ক্ষয়ে যাওয়া অজস্র প্রাগৈতিহাসিক জন্ম। কোন কোন রাত ভঙ্গুর চায়ের পেয়ালায় একটি চুমুকের তৃষ্ণায় ঠোঁট ডুবিয়ে চুষে নেওয়া অপার তৃপ্তি।

অব্যক্ত থাকা কত কথার যে জন্ম হয় রাতের শেষ শুভ্র চাঁদের আলোয়;  কিছু কিছু কথা হয়ে যায় দীর্ঘ বিষণ্ণতার গল্প, যা বলা যায় না কাউকেই। অদ্ভূত সেই বিষণ্ণতা, বিচিত্র সেই মন খারাপ। মাথার ভেতর পোকার মতো জেগে থাকে “ভাল্লাগেনা” নামক বিচিত্র এক রোগ। মাকড়সার জালের মতো বিস্তৃত করতে থাকে তার শাখা প্রশাখা। সেই জালে আটকে যায় জীবনের অমোঘ রূঢ় নিয়ম, কেবল লন্ঠন হাতে জেগে থাকে কিছু নিশাচর।

নিভে যাওয়া অজস্র নিঃশ্বাসেরা অতিমানবের ছোঁয়ায় হয় ওঠে দীর্ঘশ্বাস। জন্মান্তরের প্রেম আলো খুঁজে নেয় শেষ রাতে অন্ধকারে, পুলকিত এক একটি ঝিঁ ঝিঁ পোকা আঙুল ছুঁয়ে লিখে রেখে যায় ঘরে ফেরার জন্মজন্মান্তরের স্বাক্ষর। দুঃস্বপ্নের মতো সময় আসে মাঝে মাঝে, চোখ বুজে পড়ে থাকা অচেনা সময়। এমনই অনেক অচেনা সময়ের হাত ধরে পাড়ি দেওয়া, ক্ষয়ে যাওয়া অন্ধকার ফিরে আসে বারবার। চায়ের পেয়ালা থেকে শুষ্ক ঠোঁট আপন আশ্রয় খুঁজে নেয় সিগারেটের পিছনে। ফিরে পাওয়া  কথা গুলো জমা হয় শুভ্র চাঁদের ডগায়।

রাত্রি গুলো ক্রমশই গভীর থেকে গভীরতর হয়, জীবনের কৌটাই ফোঁটায় ফোঁটায় জমা হতে থাকে নিঃসঙ্গতা। একাকিত্বের ডানায় চেপে অপেক্ষায় থাকে দুধ সাদা ভোর। জেগে থাকা রাস্তার কুকুর গুলোর ডাকের সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়  রাতপ্রহরীর বাঁশি। দুশ্চিন্তায় অকস্মাৎ ছেদ পড়ে। অবশ চিন্তারা বাঁধা পড়ে নিঃসঙ্গতার তারে। স্বপ্নের দেয়ালে আছেড়ে পড়ে ঘুম, নির্বোধ নিস্তব্ধ ঘুম, ঘুমের ঔষধের ছেঁড়া পাতায়…!!

Comments Below

comments

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Pinterest
  • stumbleupon