img
Home / দেশ ও দশ কথা / উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ২৮ প্লাটুন সেনা মোতায়েন

উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ২৮ প্লাটুন সেনা মোতায়েন

বছর না ঘুরতেই আবার সেই একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হল আমাদের। এই মুহুর্তে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি যে কোন পর্যায়ে আছে তা কেবল বানবাসীরাই উপলব্ধি করতে পারবেন। পানির আগ্রাসন যেন বেড়েই চলেছে অবিরাম গতিতে। আমাদের পাশের দেশ ভারতও খুব বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়ে উদারহস্তে সকল গেইট খুলে দিল। আর সাথে সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় বৃষ্টিবান তো আমাদের জন্য অশেষ রহমত, কিন্তু মানুষগুলো না এখন আর সস্তিতে নেই, তাদের চাল, চুলো সবই গেল। আমরা আজকে পর্যন্ত বন্যাকে মোকাবেলা করতে পারিনি। প্রতিবছরই বন্যার অকাল অভিশাপে তলিয়ে যাচ্ছে হাজার ফসলি জমি, আবাদি পশু, ঘর-বাড়ি, শিক্ষা- প্রতিষ্ঠান, রেলপথ, সড়কপথ, জনপথ এবং সাথে ঘটছে কিছু প্রাণের বিনাশ।আমাদের দেশে বন্যাকবলিত এলাকায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে বর্ণনাতীত কষ্ট এবং দুর্ভোগে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে উত্তরাঞ্চলের প্রায় এক লাখ ২৮ হাজার ৭৬৯ টি পরিবার। এছাড়াও ২০ টি জেলার ৫৬ টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। শুধু উত্তরাঞ্চল ই নয়, মধ্যাঞ্ছলেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, রাজবাড়ীর নতুন নতুন এলাকাগুলো প্লাবিত হচ্ছে। বন্যায় গত তিন দিনে জামালপুর, নীলফামারি, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জে মোট ৩৮ জনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেছে। খুবই মর্মান্তিক ব্যাপার মৃতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা অনেক বেশি।

শুধু বাংলাদেশই নয়, বড় ধরনের বন্যার মধ্যে পড়েছে ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাও। এইদেশ গুলোতেও প্রাণহানী ঘটেছে। এছাড়া আইএমডির সূত্রমতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুনণাচল ও সিকিম রাজ্যে টানা বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। আর এতে করে আমাদের উত্তরাঞ্চল সহ ভারতের আশে পাশের এলাকায় প্রবল্ভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্খা আছে।

বন্যা
বন্যার প্রাদুর্ভাব – কালের কন্ঠ

আমাদের উত্তরাঞ্চলের বানবাসীদের দুর্ভোগ সীমাহীন – বন্যায় প্রায় ২৩ স্থানে বন্যা রক্ষা বাঁধ ভেঙে প্লাবনের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় ৯টি বাঁধ ভেঙে যায়। এছাড়াও তিস্তা নদীর প্রায় ৬০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। কুড়িগ্রামেই প্রায় পানিবন্দী ৫ লাখ মানুষ। রংপুরের ৬ উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি। দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ১০টি ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি। এছাড়া সিরাজগঞ্জ, শাহজাদপুর, চৌহালী, কাজীপুর উপজেলার চর অঞ্চলের ৮০ শতাংশ মানুষ পানিবন্দি। লালমনিরহাটে প্রায় এক লাখ দুই হাজার ৭৫০টি পরিবার বন্যাকবলিত। পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলায় প্রায় অর্ধলক্ষের বেশি পরিবার বন্যাকবলিত।এইভাবে বৃষ্টিপাত বেড়েই চলছে, আর আশঙ্খার ভাটা নিমজ্জিত হচ্ছে পানির তলে। আর রাজধানী ঢাকাও কিন্তু বন্যার থাবা থেকে বঞ্চিত হবে না, ঢাকার আসে পাশে ৪টি নদী বিদ্যমান, প্রবল বর্ষণের ফলে এই নদীগুলো ফুলে ফেঁপে উঠছে। তাই রাজধানীতেও বন্যার আশঙ্খা থেকে যায়। এছাড়া আমাদের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যাবস্থার নাজুক দশাতো রয়েছে, একটু বর্ষণে সুন্দর নগরী পানির উপর ভাসমান থাকে – দেখতে কিন্তু মন্দ নয়।

তবে আশার কথা আমাদের মাননীয় সরকার বর্ন্যাতদের জন্য সেনা মোতায়েন করেছেন। নতুনভাবে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়ে প্রয়োজনীয় স্পীডবোট ও উদ্ধারসামগ্রীসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া দিনাজপুর, গাইবান্ধা, রংপুর ও সৈয়দপুরে সেনা সদস্য ও উদ্ধার সরঞ্জাম বাড়ানো হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর ২৮ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

 

বলার অপেক্ষা রাখে না, বন্যার পানি অল্প কয়েকদিনে নেমে যাবে। কিন্তু এই কয়েকদিনে যে ক্ষতি হলো তা কোটি কোটি ডলারে হিসাব করতে হবে। তাই আমাদের সবাইকে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে, আর সাথে জরুরি কিছু বিষয় আছে যা এখনই করা দরকার, না হলে আমাদের মানবিক বিপর্যয় ঘটবে।  আমরা সবাই যদি এই বন্যাকবলিত পীড়িত মানুষগুলোর জন্য নিজেদের অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি, তাহলে কিছুটা হলেও মানুষগুলোর কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে। আমারা সবাই জানি বাংলাদেশ নদিমাতৃক দেশ, জীবনের সঙ্গে বন্যা থাকবে, আর আমাদের সবাইকে সেই প্রতিকূল অবস্থার বিপক্ষে একসাথে লড়তে হবে।

আমার সবাই জানি – প্রতিকার নয়, প্রতিরোধই উত্তম পন্থা।

 

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো, কালের কন্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং সমকাল।

Comments Below

comments

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Pinterest
  • stumbleupon