img
Home / দেশ ও দশ কথা / বাংঙ্গালীরা মারা গেছে, বঙ্গবন্ধু মরে নাই

বাংঙ্গালীরা মারা গেছে, বঙ্গবন্ধু মরে নাই

/
/

১৪ আগস্ট,১৯৭৫ রাধানাথ বাবু এসে দেখা করলেন বঙ্গবন্ধুর সাথে। আমি আপনাকে সাবধান করতে এসেছি।আপনার সামনে মহাবিপদ। আমার বিপদ?হাত না দেখেই বলে দিলেন? আমার কাজ আপনাকে সাবধান করার কথা।আমি তা করলাম।আপনার সবচেয়ে বড়ো ভরসা বাংলার মানুষ,আপনার মহাবিপদে তারা আপনাকে ত্যাগ করবে।আপনার পাশে থাকবে না। বঙ্গবন্ধ তিক্ত গলায় বললেন আপনার কথা শেষ হয়েছে? শেষ হলে চলে যান। খন্দকার মোশতাকের ব্যাপারে সাবধান, ইনি চেষ্টায় আছেন আপনাকে সরিয়ে নতুন ফেডারেশন করতে,। শেখ মুজিব এবার বিরক্তি নিয়ে বললেন, মোশতাকের ব্যাপারে আমাকে সাবধান করতে হবে না,তাকে আমি চিনি।আমি যদি তাকে এক মাস ঘাস খেতে বলি, সে দুই মাস খাবে। রাধানাথ তর্কে না গিয়ে চলে গেলেন।। ১৫ আগস্ট, ফজরের আজান হচ্ছে,মেজর ফারুকের ট্যাংকবহর বের হয়েছে।আলিশান এক ট্যাংক ঢুকছে ধানমন্ডি ৩২নম্বরে, ট্যাংকের ঢাকনা খোলা। চারদিকে আজান হচ্ছে। আজানের সময় শেখ মুজিবকে অকথ্য কথা বলছেন মেজর মহিউদ্দিন।তার হাতে স্টেনগান, শেখ মুজিবের হাতে পাইপ। সাদা পাঞ্জাবি, আর চেকের লুংগি। কি চাস তোরা? স্যার একটু আসেন। কই যাবো।তোরা আমাকে মেরে ফেলবি? পাকিস্থানি সেনারা যা পারে নি,তোরা তাই ই করবি? কথা শেষ না হতেই মেজর নুর অস্র হাতে ছুটে এলো। শুরু হলো ব্রাশফায়ার।মাটিতে পড়ে গেলো বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহ। সেনা সদস্যরা এবার দোতলায় এসে দরজা পিটাতে থাকে।বেগম মুজিব দরজা খুলতে খুলতে বললেন মরতে হলে এক সাথে মরবো।সবাইকে নিচে নিয়ে আসা হচ্ছিলো।বেগম মুজিব সিড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখে বললেন, আমি নামবো না,আমাকে এখানেই মেরে ফেলো। হানাদারেরা তাই করলো।

একে একে পড়তে থাকলো লাশ। কেউ ই বাচতে পারে নি সেদিন,এমনকি ঘরের বাচ্চাটাও। এদেশের আকাশে যে মানুষকে একদিন উড়িয়েছিলো লাল সবুজের পতাকা, মাথা উচু করে যে পতাকা পতপত করে উড়েছিল, হঠাৎ যেনো সেই পতাকা নুইয়ে পড়লো। যে নেতাকে পাকিস্তানি সেনারা গায়ে হাত দেয়ার সাহস করে নি,সেই মুজিবকে এতোটা নির্দয় ভাবে মেরে ফেললো এই দেশেরই বিপদগামী সেনারা? জাতীর পতাকা যেনো সেদিন সত্যিই খামছে ধরেছে পুরনো শকুনেরা। যে মানুষটি আশা দিয়েছিলো,”আর যদি একটা বুলেট চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়,তবে তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ,যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোলাবেলা করো ” আজ সেই মানুষটির বুকেই বুলেট চললো? তার পরের ইতিহাস সবারই জানা। সদ্য ভুমিষ্ট বাচ্চা অল্প দিনে এতিম হলে যেমন হয়,তেমনি ভাবে এই জাতিকে এতিম করে দিয়ে চলে গেলো মানুষটি। যে সূর্য দেখে উদিত হয়েছিলো বাংলাদেশ,চিরদিনের জন্য সেই সূর্যকে টুঙ্গিপাড়ায় দাফন করা হয়েছে সেদিন।

সেদিন মাটিচাপা পড়ে যায় দেশপ্রেম শব্দটি,মাটিচাপা পড়ে যায় আদর্শ মাটি চাপাপড়ে যায় সেই বজ্রকন্ঠ, যে কন্ঠে বেজেছিলো “রক্ত যখন দিয়েছি,রক্ত আরো দিবো,তবু এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ “। আর সেই জাতিরই কিছু কলঙ্কিত সন্তান চিরদিনের জন্য মুছে দিলো দেশের জাতিসত্তাকে। ক্ষমা করবেন বঙ্গবন্ধু, আপনি আমাদের দিয়েছেন ৬৮হাজার গ্রাম, বিনিময়ে আমরা দিয়েছি সাড়ে তিন হাত মাটি। আজ তোমার সন্তানেরা ভিশন বেপরোয়া, তোমার জয় বাঙলা স্লোগান আজ টেন্ডারবাজী,রাজনৈতিক হামলায় ব্যাবহার করে। দেশের সীমান্তে আজ তোমার সন্তানের লাশ ঝুলে থাকে,ভারত থেকে ভেসে আসা বানের পানিতে তোমার সন্তানেরা মরছে,কেউ তো আবার কবরের জায়গাটাও পাচ্ছে না। আজ তুফান সরকারেরা তোমার তোমার আদর্শকে বেচে ধর্ষণের পথ বেছে নেয়। সীমান্তে ঢুকছে ইয়াবা,তোমার ছেলেরা আজ ভালো নেই,এই বাঙলায় তোমাকে আজ ভীষন প্রয়োজন। তুমি ফিরে এসো।।

Comments Below

comments

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Pinterest
  • stumbleupon