img
Home / দেশ ও দশ কথা / চিকুনগুনিয়া প্রকোপ কমেছে, আতঙ্ক কাটে নি

চিকুনগুনিয়া প্রকোপ কমেছে, আতঙ্ক কাটে নি

/
/

সম্প্রতি কম বেশি সবার মধ্যেই একটি নীরব আতঙ্ক বিরাজমান,যা হলো চিকুনগুনিয়া জ্বর।প্রভাবের চেয়েও এর অপপ্রচার আমাদেরকে দিন দিন আরো অসহায় করে তুলছে।চলুন,জেনে আসা যাক এই জ্বর এর ইতিবৃত্ত। চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাস জনিত জ্বর যা আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। এ রোগ ডেঙ্গু, জিকা’র মতোই এডিস প্রজাতির মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়িয়য়ে থাকে। রোগটি প্রথম ১৯৫২ সালে আফ্রিকাতে দেখা গেলেও পরবর্তীতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন- ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মায়ানমার এবং ইন্দোনেশিয়াতে এর বিস্তার দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রথম ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জে প্রথম এ ভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা যায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ঢাকার দোহার উপজেলায় এই রোগ দেখা যায়।এর পরে বিচ্ছিন্ন দুএকটি রোগী ছাড়া এ রোগের বড় ধরনের কোনো বিস্তার আর বাংলাদেশে লক্ষ করা যায়নি।

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস : চিকুনগুনিয়া ভাইরাস টোগা ভাইরাস গোত্রের ভাইরাস। মশাবাহিত হওয়ার কারণে একে আরবো ভাইরাসও বলে। ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাস ও একই মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং প্রায় একই রকম রোগের লক্ষণ দেখা যায়। রোগের লক্ষণ সমূহঃ (১) হঠাৎ জ্বর আসা সঙ্গে প্রচণ্ড গিঁটে গিঁটে ব্যথা (২) প্রচণ্ড মাথাব্যথা (৩) শরীরে ঠাণ্ডা অনুভূতি (৪) বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া (৫) চামড়ায় লালচে দানা (৬) মাংসপেশিতে ব্যথা বাহক: এডিস ইজিপ্টি ((Ades aegypti) এবং এডিস এলবোপিকটাস (Ades albopictus) মশার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। মশাগুলোর শরীরের ও পায়ের সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ দেখে সহজেই চেনা যায়। রোগ নির্ণয়: উপসর্গগুলো দেখা দিলে, ওই ব্যক্তির চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। উপসর্গগুলো শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে ভাইরাসটি (Serology Ges এবং RT-PCR) পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করা যায়।

চিকিৎসা: চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা মূলত উপসর্গ ভিত্তিক। এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে এবং প্রয়োজনে জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে ওষুধ খেতে হবে। গিটের ব্যথার জন্য গিঁটের উপরে ঠাণ্ডা পানির স্যাঁক এবং হালকা ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। তবে প্রাথমিক উপসর্গ ভালো হওয়ার পর যদি গিঁটের ব্যথা ভালো না হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। কোনো কারণে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত।

প্রতিরোধ: ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া রোধে মশার জন্মস্থান, আবাসস্থল ও এর আশেপাশে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে হবে। বাসার আশেপাশে ফেলে দেওয়া মাটির পাত্র, কলসি, বালতি, ড্রাম, ডাবের খোসা— মোট কথা, পানি জমতে পারে এমন কোনও উপকরণই রাখা যাবে না। কারণ, জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা প্রজনন করতে পারে।মশার কামড় থেকে সুরক্ষাই চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়। রাতের বেলায় মশারি টানিয়ে ঘুমানো, জানালায় নেট ব্যবহার করা, প্রয়োজন ছাড়া দরজা-জানালা খোলা না রাখা, শরীরে মশা প্রতিরোধক ক্রিম ব্যবহার করা— এগুলোর মাধ্যমেই এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। মনে রাখতে হবে,জ্বর মানেই চিকুনগুনিয়া নয়।আবহাওয়ার পরিবর্তন কিংবা ব্যক্তির নিজের ভৌগলিক অবস্থানের পরিবর্তনের কারণেও যেকোনো বয়সের মানুষ হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন।তবে,সচেতনতাই মানুষকে সকল অযাচিত পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম।তাই নিজে সচেতন থাকুন,পরিবারেরর সবাইকে সচেতন করুন।

Comments Below

comments

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Pinterest
  • stumbleupon