img
Home / তারুণ্য ও আমরা / কখনো এই ১০টি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার আগে কাজ নয়

কখনো এই ১০টি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার আগে কাজ নয়

আমাদের সবারই শুরুতে নতুন চাকরির প্রতি আলাদা একটি জোঁক থাকে। কিছুদিন যাওয়ার পরই বিপত্তিটা বাধে। আস্তে আস্তে কাজের প্রতি মনোযোগ হারাতে শুরু করি। নয়তবা টিম লিড বা ম্যানেজার বা ডিরেক্টর এর সাথে মনোমালিন্য হচ্ছে। এইটা কখনোই এককভাবে সৃষ্ট সমস্যা না, আমাদের দুই পক্ষ থেকেই সমস্যাটা শুরু হয়। আমরা নিজেরা যদি শুরুর দিকে কর্মস্থল সম্পর্কে একটু জেনেশুনে নিই, বা আমরা যার অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত হব, উনি নিজের সম্পর্কে একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ ধারনার অনুমান দিয়ে দেয়, তাহলে কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে কোন ধরনের অনীহা বা অবসাদ আসার কথা নয়। আমাদের বেশির ভাগই ভুলভাবে এগোতে থাকি, যাতে করে আমাদের পরবর্তীতে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়। আর এই বাজে অভিজ্ঞতাগুলো আমার কাছে মনে হয় তরুণরা খুব বেশি পেয়ে থাকে। আমরা যখন কোন চাকরির ইন্টারভিউ সম্মুখীন হই, তখন অল্প সময়ে হয়ত নিয়োগদাতা আমাদের যাচাই- বাচাই করার সুযোগ পাচ্ছেন, কিন্তু আমরা কি জেনে নিতে পারছি আমার জন্য সেই পরিবেশটুকু কতটা কার্যকারি ভূমিকা রাখবে। আমরা নিজেকে ঐ পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারব, আমাদের কাছে তখন চাকরির স্থলে অভিষিক্ত হওয়াটা মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়, আর এতে করেই বিপত্তির উৎপত্তি ঘটে। আমাদের মনে রাখতে হবে কিছু মানুষ আছে তারা তাদের স্বহজাত প্রকৃতি লুকানোর ক্ষেত্রে খুব পটু, কিন্তু আমাদেরও মনে রাখতে হবে আমরা একটি জায়গায় নিজেকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টায় নিমজ্জিত এবং এইটা একটি চলমান প্রক্রিয়া যা আপনাকে, আমাকে সবসময় শিখাতে সাহায্য করবে। চলুন জেনে নিই আমারা চাকরির শুরুর আগে যে ১০টি বিষয় জেনে নিব –

১। কাজের সময় কি? আপনার আগমন এবং কখন প্রস্থান করবেন? আপনি কত সময় কাজ করতে আগ্রহী – সে ক্ষেত্রে আপনার প্রত্যাশা কি?

২। আপনার জন্য অতিরিক্ত কোন কাজ আছে কিনা, যা আপনার মেইল বা নোট করা আছে, আপনি সপ্তাহে অবিচ্ছিন্নভাবে চেক করুন।

৩। আপনি কখন বন্ধ পাবেন অথবা বন্ধের নিয়মাবলী কি কি? কিভাবে আপনি অবকাশ নিতে পারবেন বা ব্যাক্তিগত বা অসুস্থ সময় কিভাবে কাজ করতে হয়?

৪। বাড়িতে কাজ করার নিয়ম কি, বিশেষ করে যখন আবহাওয়া খারাপ হয় বা আপনি কাজ করতে ভাল বোধ করছেন না বা হাল্কা অসুস্থ যা আপনার কাজে বিঘ্ন ঘটাবে?

৫। আপনার কাজের সময় সর্বনিন্ম কতক্ষন?

৬। আপনি কাদের জন্য কাজ করবেন এবং তারা আপনার থেকে কি আশা করে? আপনি কিভাবে বন্ধ সময়ে যোগাযোগ করতে পারেন যাতে আপনি তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন।

৭। আপনার কর্মস্থল কার অধীনে হবে, এতে তার ভূমিকা কি?  কাজের মানদণ্ড কতটুকু?

৮। আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ ক্লায়েন্ট এবং অন্যান্য পরিচিত জেনে নিন। সবার সাথে কাজ করতে হলে কিছু জিনিস দরকার – তাদের নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা, কাজের ধরন এবং যোগাযোগ ইত্যাদি।

৯। আপনার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হবে কি? এই ক্ষেত্রে আপনার করণীয় কি?

১০। কোম্পানির সম্পর্কে, তাদের সংস্কৃতি এবং ব্যাবস্থাপনা দলের সম্পর্কে আরোও কিছু জানার থাকলে জেনে নিন।

আপনি হয়ত ভাবছেন, পরের মাসে হয়ত বেকারত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে বা আরো খারাপ জিনিস অপেক্ষা করছে। মনে রাখবেন আগে নিজেরটা দেখুন, কারন কর্মস্থলে প্রতিভার চেয়ে সমন্বয় করাটা অনেক বড় একটি ব্যাপার। নিজের উপর পূর্ণ আস্থা রাখুন, নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন এবং আপনাকে নিয়ন্ত্রণ এর জন্য আপনার আত্মবিশ্বাসই অনেক বলিষ্ঠ। উপভোগ করুন আপনার কর্মজীবন।

Comments Below

comments

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Pinterest
  • stumbleupon